রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটিতে অবৈধ গাছ কর্তন ও কাঠ পাচার রোধে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে বন বিভাগের। আর অব্যাহত অভিযানে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়েছে।
এইদিকে গত ৬ মাসে অন্তত ৫০ হাজার ঘনফুট অবৈধ কাঠ জব্দ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ। যার বর্তমান বাজার মূল্য কোটি টাকার অধিক। এসব কাঠের মধ্যে সর্বশেষ গত বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি শহরের জেবি করাতকলের কাপ্তাই হ্রদ সংলগ্ন এলাকা থেকে ১৫৬ টুকরা চিড়াই কাঠ জব্দ করেছে বন বিভাগের বিশেষ টহল দল। পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটি সদরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রাতের আঁধারে মূল্যবান সেগুন ও বিভিন্ন জাতীয় কাঠ অবৈধভাবে পাচার করে আসছিল চোরাকারবারি ও কাঠ পাচারকারী একাধিক চক্র। খবর পেয়ে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত অভিযানে পাচারকালে গত ৬ মাসে কোটি টাকার অধিক অবৈধ কাঠ জব্দ করে বন বিভাগ।
বন বিভাগের চোখকে ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে ওইসব কাঠ পাচার করা হচ্ছিল। জব্দ করা কাঠগুলো পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সদর রেঞ্জে মজুত রাখা হয়েছে।
বুধবার পাচারের জন্য রাঙ্গামাটি শহরের কাঠালতলীর জেবি করাতকলের কাপ্তাই হ্রদের পাড়ে অবৈধ চিড়াই কাঠ মজুত করা হয়েছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অতর্কিত গিয়ে অভিযান চালায় বন বিভাগের বিশেষ টহল দল।
এ সময় গোদা, গুটগুটি ও কড়ই জাতির ১৫৬ টুকরা অবৈধ চিড়াই কাঠ জব্দ করা হয়েছে। যার পরিমাণ ১০৩ ঘনফুট।
পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গামাটি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা এসএম মাহবুব উল আলম জানান, অবৈধ গাছ কর্তন ও পাচাররোধে বর্তমানে বন বিভাগ কঠোর অবস্থানে।
এজন্য রাঙ্গামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকটি বিশেষ টহল দল ভাগ হয়ে পালাক্রমে রাত দিন ২৪ ঘন্টা রাঙ্গামাটি সদর, ঘাগড়া, কাপ্তাইসহ আশেপাশে এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত দুই মাস ধরে কাঠ পাচার রোধে কঠোর অভিযান চলছে।
অভিযানের ফলে পাচারকারীদের তৎপরতা কমেছে। গত ৬ মাসে পাচারকালে একটি ট্রাকসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বন মামলা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি